ভোলার সময়ে সংবাদ প্রকাশের পর সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলার লালমোহনে জালিয়াতি করে শিক্ষকতার অভিযোগে আলোচিত শিক্ষক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ‘ভোলার সময়ে’ এ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর অধিদপ্তর থেকে জারি করা আদেশে বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে ঘটনাটি আরও গভীরে তদন্ত করতে ভোলা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অসীম প্রসাদ বিশ্বাসকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
আজ সোমবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, লালমোহন উপজেলার চর উদয় কালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করছিলেন নাজিমুদ্দিন। তিনি নিয়োগের সময় যে শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য জমা দিয়েছিলেন, তাতে বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তদন্ত কমিটির তথ্যমতে, নাজিমুদ্দিন স্নাতক (পাস) সম্পন্ন করার আগেই প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেন এবং জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি হাতিয়ে নেন।
পরবর্তীতে তার সনদগুলো সংশ্লিষ্ট বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচাই করা হলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। সনদপত্র সঠিক হলেও জালিয়াতিটা ঘটেছে সময়ের ফেরে— সোজাকথায়, স্নাতক পাশের আগেই তার চাকরি হয়ে যায়, আর পাশের সনদ জমা দেওয়া হয় চাকরি পাওয়ার অনেক পর!
‘ভোলার সময়ে’ প্রথম এই বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে পুরো জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি গঠন করে।
প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর শিক্ষক নাজিমুদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল। তবে তার দেওয়া লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সাথে তার বেতন-ভাতা স্থগিত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।