সরকারের প্রস্তানাবনায় কোন অস্তিত্ব নেই ভোলা-মুলাদী-শরীয়তপুর-ঢাকা সড়ক
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে ‘ভোলা-বরিশাল সেতু’ নাকি নতুন প্রস্তাবিত ‘ভোলা-মেহেন্দীগঞ্জ সড়ক’—কোনটি কার্যকর হবে, তা নিয়ে ভোলার ২২ লাখ মানুষের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চরম রূপ নিয়েছে।
এরই মধ্যে দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি রিপোর্টে “তুরুপের তাস: ভোলা-মুলাদী-শরীয়তপুর-ঢাকা সড়ক” খন্ডিত একটি অংশে ভোলার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব মাত্র ১৫৫ কিলোমিটারের কল্পনানির্ভর তথ্য প্রকাশ করায় তীব্র বিতর্ক ও জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের কোনো অফিশিয়াল প্রস্তাবনায় এই সড়কের অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও আগ বাড়িয়ে এমন তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।
যুগান্তরের কাল্পনিক ‘১৫৫ কিলোমিটার’ রোড ম্যাপ : সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশালের এক প্রকৌশলীর উদ্ধৃতি দিয়ে যুগান্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়—মুলাদীর মৃধারহাটের বিপরীতে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের ৫০০ মিটারের দূরত্বে একটি সেতু করা হলে ভোলার মানুষ নাওডোবা ও পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ঢাকায় পৌঁছাতে পারবে। এতে ভোলার সঙ্গে ঢাকার দূরত্ব কমে দাঁড়াবে ১৫৫ কিলোমিটার এবং সময় লাগবে মাত্র ২ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট।
প্রকৃতপক্ষে, শরীয়তপুরের গোসাইরহাট হয়ে ঢাকার সঙ্গে ভোলাকে সরাসরি যুক্ত করার এই ‘১৫৫ কিলোমিটার’ রুট নিয়ে সরকারি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। বর্তমানে যে প্রকল্প বাস্তবায়নে টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে, তা বরিশাল-বাবুগঞ্জ-মেহেন্দীগঞ্জ কেন্দ্রিক, যেখানে ঢাকার দূরত্ব দাঁড়ায় ২০৫ কিলোমিটার (যা বরিশাল শহর হয়ে বর্তমান ২২৫ কিলোমিটারের চেয়ে ২০ কিলোমিটার কম)।
সরকারের অনুমোদিত প্রস্তাবনার বাইরে গিয়ে যুগান্তর পত্রিকা একটি কাল্পনিক রুট এবং হিসাব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে বলে অভিযোগ ভোলার মানুষের। যেখানে সরকার কম খরচে মেহেন্দীগঞ্জ-বরিশাল রুটে দ্রত যোগাযোগের সমাধান খুঁজছে, সেখানে অপ্রাপ্ত ও অপ্রতিশ্রুত একটি কাল্পনিক পথের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করায় জনমনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।