ভোলার মনপুরায় স্কুল শিশুদের ভাগ্যে জুটল পচা ডিম-কলা আর বাসি রুটি
মনপুরা প্রতিনিধি:
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ফুড ফিডিং প্রকল্পের বরাদ্দ করা মিড-ডে মিল কর্মসূচির খাবারে পচা ডিম, কলা ও বাসি বনরুটি সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, স্কুলে উপস্থিতি বৃদ্ধি ও ঝরে পড়া রোধে চালু হওয়া সরকারি এ কর্মসূচিতে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করায় অভিভাবক এবং শিক্ষকরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মিড-ডে মিলের আওতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিটি ডিমের জন্য ১৪ টাকা, কলার জন্য ১০ টাকা ও দুটি বনরুটির জন্য ২৫ টাকা হিসাবে বিল পরিশোধ করা হয়। সপ্তাহের রোববার ডিম ও বনরুটি, সোমবার বনরুটি ও দুধ, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি ও ডিম দেওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, মনপুরা একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা। এখানে মিড-ডে মিলের কলা, বনরুটি ও ডিম জেলা শহর থেকে সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘ সময় পরিবহনের কারণে প্রায়ই বাসি রুটি, নষ্ট কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের অর্ধেক কলা, অর্ধেক ডিম ও একটি বনরুটি দেওয়া হয়। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশ করেই মানহীন খাবার সরবরাহ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এতে উভয়পক্ষ লাভভান হয়। নিম্নমানের খাবার দিলেই দিনে অনেক টাকা তাদের পকেটে যায়।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলার মাস্টারহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাছুয়াখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকলাতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজিরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাতলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণপ্রসাদ প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পেয়ারী মোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয়।
এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষার্থীদের প্রায় ৯০ শতাংশকে নিয়মিত মিড-ডে মিলের আওতায় খাবার দেওয়া হয়। তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেশি হয়ে গেলে খাবার ভাগ করে দিতে হয়। আবার কখনো উপস্থিতি কম থাকলে অবশিষ্ট খাবারও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান যেভাবে খাবার পাঠায়, সেভাবেই তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মাঝেমধ্যে খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যায় বলেও জানান তাঁরা।
এ নিয়ে হাজিরহাট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন ও প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ বলেন, মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিশ্চিত করা জরুরি। মানহীন বা নষ্ট খাবার শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হলে তারা অসুস্থ হতে পারে। স্থানীয় বাজার থেকে খাবার কেনার দাবি জানান তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আশরাফ হোসেন বলেন, পচা বা মানহীন খাবার গ্রহণ না করে সরবরাহকারীকে ফেরত দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগসাজশ করে মানহীন খাবার সরবরাহ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
শিক্ষা কর্মকর্তা আরও বলেন, মনপুরার স্থানীয় বাজার থেকে মিড-ডে মিলের খাবার সংগ্রহের বিষয়ে জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।