সর্বশেষঃ

জেলা শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম ছালেহ্ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

বিশেষ প্রতিনিধি:

​‘ভোলার সময়’ পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে দুর্নীতি ও অনিয়মের সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এ. কে. এম ছালেহ্ উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

​তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসাইনকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

​আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মাউশি-র উপ-পরিচালক মো. জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘ভোলার সময়’-এ ভোলা জেলা শিক্ষা অফিসার এ. কে. এম ছালেহ্ উদ্দিন এবং জেলা শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী মো. জাহিদ হোসেনের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সচিত্র ও তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

​প্রতিবেদনে উঠে আসে—জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) অর্থায়নে এবং কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত নারী শিক্ষকদের ৩ দিনব্যাপী ‘লাইফ স্কিলস এডুকেশন (LSE)’ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় খাবার বরাদ্দ থেকে প্রায় ৭৬,৪৫০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রতি শিক্ষকের জন্য প্রতিদিন ৬৫০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও নিম্নমানের খাবার খাইয়ে বরাদ্দের ৪৩ শতাংশের বেশি টাকা পকেটে পুরেছে ওই চক্রটি।

​এ ছাড়া ‘ভোলার সময়’-এ প্রকাশিত ২য় পর্বের প্রতিবেদনে উঠে আসে, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে ভোলা জেলার কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বই বহনের বাবদ পাঠানো সরকারি টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা হলেও তা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেওয়া হয়নি। এনসিটিবি ঢাকা শাখা থেকে পাঠানো ১৯,৬০৩ টাকা ব্যাংক থেকে গত ২৪ জুন উত্তোলন করে নিজের কাছে রেখে দেন জেলা শিক্ষা অফিসার।

​এ ছাড়া ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সায়েন্স প্রজেক্টের অর্থ, জরিপের টাকা এবং তেল ও গাড়ি মেরামতের ভূয়া ভাউচার বানিয়ে সরকারি অর্থ উত্তোলনের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে।

​‘ভোলার সময়’-এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। মাউশি ও এনসিটিবি ঢাকা হেড অফিস বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।