ভোলার ছেলে কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘প্রিন্স আইউব, মাসে আয় করেন লাখ টাকা
বিশেষ প্রতিনিধি:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন প্রিন্স আইউব। বর্তমানে শুধু ফেসবুকেই তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ। আর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মিলিয়ে তার মোট ফলোয়ার প্রায় ৫০ লাখ বা ৫ মিলিয়ন।
তবে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানোর পথটা ছিল দীর্ঘ ও কঠিন। ২০১৯ সালে সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ শুরু করেন প্রিন্স আইউব। শুরুর দিকে দীর্ঘ সময় কনটেন্ট তৈরি করেও কোনো অর্থ উপার্জন করতে পারেননি। তারপরও আয়ের আশায় নয়, নিজের স্বপ্ন ও কাজের প্রতি ভালোবাসা থেকেই নিয়মিত কনটেন্ট তৈরি করে গেছেন।
একপর্যায়ে তার সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট মনিটাইজেশন পায়। শুরুতে আয় ছিল খুবই সীমিত। কিন্তু ধীরে ধীরে অভিজ্ঞতা, নিয়মিত কাজ এবং দর্শকদের ভালোবাসায় তার পরিধি বাড়তে থাকে। বর্তমানে নিজের ক্যারিয়ারে এক মাসে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে জানান তিনি।
প্রিন্স আইউবের সাফল্যের গল্পে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তার পরিবার। তার বাবা অনেক বছর আগে মারা যান। এরপর থেকে তার মা সবসময় তার পাশে থেকেছেন। কঠিন সময়ে সাহস দেওয়া থেকে শুরু করে তার স্বপ্নকে সমর্থন করা—সব ক্ষেত্রেই মায়ের অবদানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন প্রিন্স আইউব।
শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়েই থেমে থাকেননি তিনি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে নিজের নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রিন্স আইউব ফাউন্ডেশন। অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
শুরুর দিনগুলোতে তার কাজ নিয়ে আশপাশের অনেক মানুষ হাসি-ঠাট্টা করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কাজ করে ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব—এমন বিশ্বাস অনেকের কাছেই তখন অস্বাভাবিক ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পরিস্থিতি বদলেছে। আজ যারা একসময় তাকে নিয়ে মজা করতেন, তারাই তার সাফল্য দেখে গর্ব করেন।
২০১৯ সালে কোনো আয় ছাড়াই শুরু হওয়া সেই পথচলা আজ তাকে এনে দিয়েছে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের একটি বিশাল অনলাইন কমিউনিটি। নিজের কাজ থেকে উল্লেখযোগ্য আয়, লাখো মানুষের ভালোবাসা এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া—সব মিলিয়ে প্রিন্স আইউবের গল্পটি হয়ে উঠেছে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসের একটি উদাহরণ।
প্রিন্স আইউব মনে করেন, সাফল্য কখনো রাতারাতি আসে না। দীর্ঘ সময় ধরে নিজের কাজ করে যাওয়া, ব্যর্থতার পরও চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের মানুষের বিশ্বাস ধরে রাখাই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
ভবিষ্যতে সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও বড় পরিসরে কাজ করার পাশাপাশি প্রিন্স আইউব ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ইতিবাচক সামাজিক উদ্যোগগুলোকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।