সর্বশেষঃ

ভোলায় তদারকিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস বিমুখ শিক্ষক

ডেস্ক রিপোর্ট :

বিনামূল্যে পাঠ্যবই, উপবৃত্তি আর চোখধাঁধানো অবকাঠামো—কাগজে-কলমে সব সুবিধাই আছে। কিন্তু নেই শুধু সঠিক তদারকি আর মানসম্মত পাঠদান। ভোলা জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে চরম প্রশাসনিক ঢিলেঢালা ভাব, শিক্ষক স্বল্পতা সত্ত্বেও উপস্থিত শিক্ষকদের অনিয়ম এবং শ্রেণিকক্ষে জবাবদিহিতাহীনতার কারণে ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। বাধ্য হয়ে সন্তানকে একটু ভালো শিক্ষার আলো দিতে সরকারি স্কুল ছাড়ছেন অভিভাবকরা; ঝুকছেন ব্যয়বহুল কিন্ডারগার্টেন ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকে।

​সরেজমিনে ভোলার বিভিন্ন উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে চাঞ্চল্যকর চিত্র। অনেক স্কুলেই শিক্ষকরা নির্ধারিত সময়ে আসেন না, আর এলেও ঠিকমতো ক্লাসে যান না। আবার নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়ার অভিযোগও বেশ পুরোনো। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে গল্পগুজব কিংবা মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকার দৃশ্য নিত্যদিনের। শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে না বুঝিয়ে অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছেন নিজেদের প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারে পড়তে যেতে।

​তদারকির চরম ঘাটতিকে এই পরিস্থিতির মূল কারণ হিসেবে দেখছেন ভোলার স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষাবিদরা।

​জেলা জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ চরফ্যাশন সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ উল্যাহ স্বপন বলেন, “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবিধার কোনো কমতি নেই, কমতি কেবল সদিচ্ছা আর কঠোর তদারকির। ক্ষেত্রবিশেষে মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের ঢিলেঢালা মনিটরিংয়ের সুযোগ নিচ্ছেন একশ্রেণির দায়িত্বজ্ঞানহীন শিক্ষক। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সঠিক পরিবেশ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না গেলে হাজার হাজার কোটি টাকার এই সরকারি বিনিয়োগ কোনো কাজে আসবে না।”

​সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি আস্থা হারিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভোলার অভিভাবকরা। তেমনই এক অভিভাবক মো. নূরে আলম বলেন, “স্কুলে বাচ্চাকে পাঠিয়ে কোনো লাভ হচ্ছিল না। শিক্ষকরা সময়মতো ক্লাসে যান না, পড়া ধরেন না। উল্টো বলেন তাঁদের কাছে কোচিং করাতে। আমরা তো গরিব মানুষ, তাও বাধ্য হয়ে কষ্ট করে বাচ্চাটাকে একটা প্রাইভেট স্কুলেই ভর্তি করিয়েছি। অন্তত সেখানে প্রতিদিন ক্লাসে কী পড়ানো হলো তার হিসাব চাওয়া হয়।”

​অন্য আরেক অভিভাবক সালমা বেগম জানান, “সরকারি স্কুলে উপবৃত্তি পাওয়া যায় ঠিকই, কিন্তু সেখানে পড়াশোনার কোনো শৃঙ্খলা নেই। তদারকি করার মতো কেউ আসে বলে মনে হয় না। শিক্ষকরা বেতন ঠিকই পাচ্ছেন, কিন্তু ক্ষতি হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েদের।”

​এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সরেজমিনে ঝটিকা পরিদর্শন বাড়াতে হবে। সেই সঙ্গে যেসব শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে ফাঁকি দিয়ে কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত, তাঁদের কঠোর জবাবদিহিতা ও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তা না হলে ভোলায় সরকারি প্রাথমিক শিক্ষার প্রতি সাধারণ মানুষের অবশিষ্ট আস্থাটুকুও একেবারে বিলীন হয়ে যাবে।