‘মঞ্চে বসা কাউকে আন্দোলনে দেখিনি, এরা ফ্যাসিবাদের দোসরদের সৃষ্টি’
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলা জেলা পরিষদে আয়োজিত জুলাই স্মরণসভার মঞ্চে ‘অনুপ্রবেশকারী ও সুবিধাবাদীদের’ বসানো এবং প্রকৃত আন্দোলনকারীদের অবমূল্যায়ন করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য ইয়ারুল আলম লিটন। ছাত্রদল আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের মঞ্চে বসা ব্যক্তিদের তীব্র সমালোচনা করে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের ক্ষোভের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ছাত্রদল আয়োজিত জুলাই স্মরণসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভোলা জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য ইয়ারুল আলম লিটন মঞ্চে বসা ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে ইয়ারুল আলম লিটন বলেন,
”জুলাই শহিদ দিবস অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদে যারা মঞ্চে বসেছে, তাদের কাউকে জুলাই আন্দোলনে আমরা দেখিনি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজপথের লড়াকু সৈনিক ও প্রকৃত জুলাই নেতৃবৃন্দ যেখানে উপেক্ষিত ও দাওয়াতহীন, সেখানে আন্দোলনের সময় নিষ্ক্রিয় ও সুবিধাবাদীদের এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে।
এই অনুপ্রবেশের পেছনে স্থানীয় প্রশাসনের একটি মহলের হাত রয়েছে উল্লেখ করে জেলা বিএনপির এই অন্যতম সদস্য সরাসরি মন্তব্য করে তিনি বলেন,
”প্রশাসনে ঘাপটি মেরে বসে থাকা ফ্যাসিস্টের দোসররাই এদেরকে মঞ্চে বসায়।”
তার এই বক্তব্য ভোলার রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো প্রশাসনে সক্রিয় থেকে প্রকৃত বিপ্লবীদের মাইনাস করার এবং বিতর্কিত ব্যক্তিদের সামনে এনে আন্দোলনকে কালিমালিপ্ত করার চক্রান্ত করছে।
ইয়ারুল আলম লিটনের এই প্রকাশ্য ক্ষোভের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে একই ধরনের অসন্তোষ দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে যে— জাবির, জিদান, মাসুম মিয়াজী কিংবা এ্যানির মতো আরও রাজপথের চেনা মুখ ছাড়াও যারা প্রথম ভোলা কলেজের সামনে সরাসরি ছাত্রলীগ ও পুলিশের হামলার শিকার হয়েছিলেন এবং মার খেয়েছিলেন সেই কাসেম, বাবররা এই অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত ছিলেন।
আন্দোলনের সম্মুখসারির ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের মঞ্চে বসিয়ে বক্তব্য দেওয়ানোর ঘটনায় সাধারণ ছাত্র-জনতা ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল, লিটনের বক্তব্যে তারই আনুষ্ঠানিক প্রতিফলন ঘটলো।
স্মরণসভায় উপস্থিত সাধারণ ছাত্র ও যুবদলের কর্মীরা জানান, রাজপথের ত্যাগী ও জুলাই আন্দোলনের মূল রূপকারদের মাইনাস করার এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তারা অতি দ্রুত প্রশাসনে লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টদের দোসরদের চিহ্নিত করে অপসারণের দাবি জানান এবং আগামী দিনে যেকোনো রাষ্ট্রীয় বা দলীয় মঞ্চে প্রকৃত জুলাই নেতৃবৃন্দের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।