সর্বশেষঃ

ভোলায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের চূড়ান্ত তালিকায় ২৫ জন হিন্দু : বাদ পড়লেন সব মুসলিম প্রার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট:
ভোলা জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের বিরুদ্ধে “অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচি”-র আওতায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচনে চরম স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম এবং অর্থ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং চূড়ান্ত তালিকায় একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে এককভাবে সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সমাজসেবা অধিদফতর কর্তৃক অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ট্রেডে বিনামূল্যে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ১৫ দিন বা ৩৬০ ঘণ্টার ‘বেসিক কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন’ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কোর্স চলাকালীন অংশগ্রহণকারীদের দৈনিক ভাতা এবং সফলভাবে কোর্স সম্পন্নকারীদের মাঝে সনদপত্র, প্রয়োজনীয় টুলস বা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত এককালীন পুনর্বাসন অনুদান প্রদানের নিয়ম রয়েছে।
​সরকারি এত বড় একটি সুযোগের বিষয়ে জেলাজুড়ে কোনো প্রকার মাইকিং বা সাধারণ প্রচারণা চালানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবুও গোপনে ১০৭ জন প্রার্থী এই প্রশিক্ষণের জন্য আবেদন করেন। আবেদনকারীদের মধ্যে ৭ জন মুসলিম সম্প্রদায়ের হলেও বাকি সবাই ছিলেন সনাতন (হিন্দু) ধর্মাবলম্বী।

​প্রশিক্ষণের জন্য চূড়ান্তভাবে ২৫ জন প্রার্থীকে বাছাই করার নিয়ম রয়েছে। তবে যাচাই-বাছাই শেষে যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে দেখা যায় নির্বাচিত ২৫ জন শিক্ষার্থীর সকলেই হিন্দু সম্প্রদায়ের। মুসলিম আবেদনকারীদের মধ্য থেকে একজনকে ও চূড়ান্ত তালিকায় স্থান দেওয়া হয়নি।
​প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া কয়েকজন হলেন— উৎপল চন্দ্র মাঝি, মিঠুন চন্দ্র মন্ডল, অলক চন্দ্র, অপু মন্ডল, রত্না রানী, সুমন চন্দ্র, প্রিয়াংকা ভক্ত, হিরণ চন্দ্র দাস এবং জীবন চন্দ্র দে।

​এই বিতর্কিত তালিকা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর একাংশের মাঝে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলা জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রজত কুমার শুভ্র স্বজাতীয় প্রীতির কারণে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ভুল বুঝিয়ে বা ম্যানেজ করে কেবল নিজ ধর্মের মানুষদেরই এই বড় সরকারি সুযোগের আওতায় এনেছেন।

​এ ছাড়া, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্র দাবি করেছে, এই তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অনৈতিক অর্থ লেনদেন বা ঘুষ নেওয়া হয়েছে। প্রচার ছাড়া এত বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়া এবং চূড়ান্ত তালিকায় শতভাগ এক পাক্ষিক নির্বাচন এই অভিযোগের সত্যতাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।

এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি অনিয়মের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই প্রশিক্ষণার্থীদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রচারের জন্য উপজেলা, শহর কার্যালয় ও ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতেই ২৫ জনকে নেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রশিক্ষণ নেওয়া প্রত্যেকের কাছ থেকে নিতাই, ধীরেন ও তপুন চন্দ্রর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অস্বীকার করেন বলেন, আমার অফিসের বাহিরে কেউ যদি কিছু করেন সেটার দায়ভার আমার নয়।
এছাড়াও ২৫ জনই হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক কেনো এমন প্রশ্নের জাবাবে তিনি দাবী করেন ইসলাম ধর্মের ৭ জন আবেদন করেছেন তারা কেউ টিকেনি।

ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, ওই প্রশিক্ষণ কমিটির তিনি সভাপতি ছিলেন। স্বচ্ছতার বিষয়ে আমি সমাজ সেবা কর্মকর্তাকে একাধিকবার জিজ্ঞাস করছি তিনি সব ঠিক আছে বলে আমাকে জানিয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পেরেছি সমাজ সেবা উপ-পরিচালকের অনিয়মের বিষয়টি। সেটি আমরা তদন্ত করে ব্যবস্তা গ্রহণ করবো।