সর্বশেষঃ

ভোলায় ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে গত ৬ মাসে ভুল চিকিৎসায় ২০ প্রসূতি ও নবজাতকের মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট :

চার দিকে নদীবেষ্টিত একমাত্র দ্বীপ জেলা ভোলায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অধিকাংশ মানুষ নির্ভরশীল বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর। তবে প্রয়োজনীয় জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতি, চিকিৎসা অবহেলা এবং দুর্বল তদারকির অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রসূতি মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ছয় মাসে চিকিৎসা অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় অনিয়ম অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই নিবন্ধিত অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষিত নার্স, গাইনি বিশেষজ্ঞ ও জরুরি চিকিৎসাসেবা ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশনসহ ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচার পরিচালিত হচ্ছে।

সম্প্রতি বোরহানউদ্দিন উপজেলার মনিরাম এলাকার গৃহবধূ মোরসেদার মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। পরিবারের অভিযোগ, গত ১৫ জুন জেলা শহরের উকিলপাড়ার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে নির্ধারিত সময়ের এক মাসেরও বেশি আগে অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। বরিশাল হয়ে ঢাকায় নেয়ার পর ১৬ জুন তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনদের দাবি, লিখিত সম্মতি ছাড়াই অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং গাইনি বিশেষজ্ঞ না হয়েও অস্ত্রোপচার পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভোলা সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মাহাবুবা পারভীন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ভোলা প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক ও ক্লিনিক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংগঠনের পক্ষ থেকেও ব্যবস্থা নেয়া হয়।

ভোলার সিভিল সার্জন ডা: মনিরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা মিললে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রশাসক ডা: শামীম রহমান জানান, নিয়মবহির্ভূতভাবে পরিচালিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র : দৈনিক নয়া দিগন্ত