সর্বশেষঃ

তজুমদ্দিন কলেজে বন্ধ হলো এডমিট বানিজ্য: ‘ভোলার সময়’-কে ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীর পোস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট :

ভোলার তজুমদ্দিন সরকারি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার প্রবেশপত্র (এডমিট কার্ড) বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অলিখিত নিয়ম বা ‘এডমিট বাণিজ্য’ বন্ধ হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘ভোলার সময়’-এ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের পর কলেজ প্রশাসনের ওপর তৈরি হওয়া চাপের মুখে এই প্রথম কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা ছাড়াই প্রবেশপত্র হাতে পেয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

​এমন ইতিবাচক পরিবর্তনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে এবং ‘ভোলার সময়’-এর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

​জানা গেছে, তজুমদ্দিন সরকারি কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষার এডমিট কার্ড দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে এই অর্থ দিলেও সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে ভোলার সময়’ নিউজ পোর্টালে ‘তজুমদ্দিন সরকারি কলেজে এডমিট কার্ডের খরচের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা বাণিজ্য, জিম্মি পরীক্ষার্থীরা’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর কলেজ কর্তৃপক্ষের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয় এবং তদন্ত কমিটিও গঠিত হয়।

​সংবাদমাধ্যমের এই তীব্র নজরদারি ও তদন্তের জের ধরে আজ ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের এডমিট কার্ড বিতরণকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অতিরিক্ত টাকা বা ফি দাবি করেনি। ফলে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ও কোনো হয়রানি ছাড়াই শিক্ষার্থীরা তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে পারেন।

​এরই প্রেক্ষিতে আরাফাত আবির নামের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী তাঁর ফেসবুক আইডিতে ‘ভোলার সময়’-এর কৃতিত্ব তুলে ধরে একটি পোস্ট করেন। তিনি লেখেন:

“ভোলার সময়কে অসংখ্য ধন্যবাদ বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করার জন্য। আজ তজুমদ্দিন সরকারি কলেজে ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের এডমিট কার্ড আনতে গিয়ে এই প্রথম টাকা ছাড়া এডমিট আনতে পেরেছি। এরকম প্রতিটি স্কুল ও কলেজের অনিয়মগুলো তুলে ধরার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।”

 

​শিক্ষার্থীরা জানান, ইতিপূর্বে পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজের অজুহাতে কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, গণমাধ্যমের সাহসী ভূমিকার কারণে তা আজ ভেঙে পড়েছে।

​এ বিষয়ে ভোলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি মোবাশ্বের উল্ল্যাহ চৌধুরী বলছেন, ‘ভোলার সময়’ প্রমাণ করে দিয়েছে যে সংবাদমাধ্যম যদি আপসহীনভাবে মাঠপর্যায়ের অনিয়ম তুলে ধরে, তবে সাধারণ মানুষ তার সুফল পায়।

‘ভোলার সময়, নিউজপোর্টালের সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আগামীতেও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার এই ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।