‘নকলের মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে, আমরা হলের অমানবিক আচরণের প্রতিবাদী’
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলার চরফ্যাশন সরকারি কলেজের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো ‘নকল করতে না পেরে আন্দোলন’—এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিরোধী বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, কোনো ধরনের অসদুপায় বা নকলের পক্ষে নয়, বরং পরীক্ষার হলে পরিদর্শকদের অতিরিক্ত কঠোরতা, অমানবিক আচরণ এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টির প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় সামান্য কারণে বা কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই একের পর এক খাতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার হলরুমে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টিসহ কঠোর ও অশোভন আচরণ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সত্যতা তুলে ধরে এক পরীক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার হলে মেয়েদের সাথেও অত্যন্ত অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। উদাহরণ দিয়ে তারা অভিযোগ করেন, “পরীক্ষার হলে একজন ছাত্রীকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই দীর্ঘ ৩০ মিনিট খাতা কেড়ে নিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।” একজন পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষার মূল্যবান ৩০ মিনিট এভাবে নষ্ট করা চরম মানসিক নির্যাতন ও অন্যায্য বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
জিহাদ নামের এক পরীক্ষার্থী নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন: ”নকল করার জন্য নয়, একের পর এক খাতা নিচ্ছিলো এবং কথাও বলতেছিলো কক্ষ পরিদর্শকরা। এজন্য পরীক্ষা শেষে আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম।”
আন্দোলনে শামিল হওয়া সাইমুন নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন: ”আমরা কোনোভাবেই মোবাইল দেখে বা নকল করে পরীক্ষা দেওয়ার পক্ষে নই। কিন্তু পরীক্ষার হলে যে ধরনের কঠোরতা দেখানো হচ্ছে, তা কোনো স্বাভাবিক পরিবেশ নয়। আমরা চাই পরীক্ষার হল যেন ভীতিমুক্ত ও মানবিক হয় এবং আন্দোলন চলাকালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর যে লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক।”
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা শতভাগ সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে। তবে পরীক্ষার হলে যেন একটি স্বাভাবিক, সুষ্ঠু এবং মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের ওপর অন্যায্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হবে না। একই সঙ্গে তারা আন্দোলন চলাকালে লাঠিচার্জ এবং গ্রেনেড হামলার মতো বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের আহ্বান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হয়ে সবাই যেন প্রকৃত সত্যটি জানার চেষ্টা করেন। তারা প্রশাসনের কাছে পরীক্ষার হলের পরিবেশ স্বাভাবিক করা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।