সর্বশেষঃ

ক্লাস ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের খোশগল্প: রিডিং পড়তে পারে না অধিকাংশ শিক্ষার্থী

ডেস্ক রিপোর্ট :

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চাঁদপুর নুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান ফেলে শিক্ষকদের খোশগল্পে মেতে থাকার অভিযোগ উঠেছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পরিবর্তে বিদ্যালয়ের থালাবাসন ও নোংরা জিনিসপত্র পরিষ্কার করানোর মতো অমানবিক দৃশ্যও দেখা গেছে। শিক্ষকদের এমন চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম, যার ফলে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এখন পর্যন্ত বাংলা বা ইংরেজি দেখে দেখে রিডিং পড়তে পারছে না।

​স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষকরা তা ফাঁকি দিয়ে নিজেদের আড্ডায় ব্যস্ত থাকেন। সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর বদলে শিক্ষকরা এক জায়গায় জড়ো হয়ে খোশগল্পে মেতে আছেন। আর শিক্ষাদানের এই মূল্যবান সময়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে বিদ্যালয়ের রান্না বা ব্যবহারের থালাবাসন পরিষ্কার করানো হচ্ছে।

​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই পড়াশোনা শিখতে, শিক্ষকদের থালাবাসন ধুতে নয়। শিক্ষকরা ক্লাসে না পড়িয়ে গল্প করেন, যার খেসারত দিচ্ছে আমাদের বাচ্চারা। ক্লাসের বড় একটা অংশ এখনও ভালো করে রিডিং পড়তে পারে না।”

​বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ক্লাসে শিক্ষকরা নিয়মিত পড়া বুঝিয়ে দেন না। অনেক সময় তাদের দিয়ে ক্লাসরুম ঝাড়ু দেওয়ানো ও থালাবাসন ধোয়ার কাজ করানো হয়। পড়াশোনার সঠিক পরিবেশ না থাকায় বাংলা ও ইংরেজি সাধারণ রিডিং পড়া তাদের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​এই বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। তিনি দাবি করেন, আমি বিদ্যালয়ে এসে যোগদান করেছি ২ বছর হয়েছে। এ কয়দিনে আমি অনেক কিছুই পরিবর্তন করেছি। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের ঘুমানোর জন্যও রুম ছিলো, আমি অনেক চাপ সহ্য করেও সেটা বন্ধ করতে পেরেছি।

শিক্ষার্থীদের দিয়ে প্লেট পরিস্কার কারনোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ ভিডিওটি আমি আসার আগের। এটা সমাধান হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে অভ্যন্তরীণ বিভেদের কারণে এ ভিডিওটি সামনে এসেছে।

​উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রিয়াজ আলম জানান, “প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এ ধরনের কাজ করানো সম্পূর্ণ বেআইনি। আর পাঠদান ফাঁকি দিয়ে শিক্ষকদের আড্ডার বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুতই দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী অভিভাবকেরা।