সর্বশেষঃ

স্কুল শিক্ষকরা প্রাইভেটের নামে প্রশ্ন ফাঁস করেন : কমেন্টে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিস্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

‘ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়’-এ তীব্র শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের ফেসবুক পেজ থেকে আরও একজন শিক্ষকের বদলি এবং ২১টি পদ শূন্য থাকার কথা জানিয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “যারা সবসময় স্কুলের ভুল ধরার চেষ্টায় থাকেন তাদের কাছে অনুরোধ, পারলে কিছু শিক্ষক এনে দেন, বিদ্যালয়ে প্রায় ২১ টি পদ শূন্য।”

​তবে কর্তৃপক্ষের এই পোস্টের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক সাড়ার বদলে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ দেখা গেছে । কমেন্ট বক্সে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা এবং মানসিক নির্যাতনের মতো গুরুতর সব অভিযোগ তুলে ধরেছেন বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

​’Sefat Ullah’ নামক এক শিক্ষার্থী কমেন্টে বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আহসান কবির নামের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাকে ‘কলঙ্ক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

ওই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, স্যারের কাছে প্রাইভেট/কোচিং না পড়ায় সব বিষয়ে ভালো মার্কস এবং ক্লাসে ভালো পজিশন থাকা সত্ত্বেও ৮ম শ্রেণিতে ওঠার পর তার রোল নম্বরের আগে অনেক কম নম্বর পাওয়া ও ফেল করা শিক্ষার্থীদের স্থান দেওয়া হয়েছে।

প্রাক্তন এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ​ক্লাস টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়লেই পরীক্ষার আগে ‘প্রাইভেটের নামে’ প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হয় । যারা প্রাইভেট পড়ে না, তাদের সাথে ক্লাসে অত্যন্ত খারাপ ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেখানে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য হচ্ছে।

​’Arnob Chandra Dey’ নামের ২০১০ সালের এসএসসি ব্যাচের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনৈতিক সিন্ডিকেট ও অসদাচরণের আরও কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেন ফেসবুক পোস্টের কমেন্টে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নতুন কোনো ভালো শিক্ষক আসতে চাইলে তৎকালীন সময়ে এক শ্রেণীর শিক্ষক নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করতেন।
​বিদ্যালয়ে এমনও ঘটনা ঘটেছে যেখানে চারুকলার শিক্ষককে দিয়ে শিক্ষার্থীদের গণিত মুখস্থ করানো হতো ! এবং সেই শিক্ষকের কাছেও প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা হতো।

​প্রাইভেট না পড়লে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হতো, আর ফেল করাতে না পারলে নম্বর কেটে কমিয়ে দেওয়া হতো। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ওপর নানা রকম মানসিক অত্যাচার চালানো হতো।

​বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শিক্ষক সংকটের পোস্টটি বর্তমানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের এমন সব গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগে সয়লাব। সাধারণ নেটিজেন ও অভিভাবকদের মতে, শিক্ষক সংকটের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এই অনৈতিক প্রাইভেট বাণিজ্য এবং শিক্ষার্থীদের ওপর মানসিক নির্যাতনের এই সিন্ডিকেট ভাঙা এখন সময়ের দাবি।