সর্বশেষঃ

তজুমদ্দিন সরকারি কলেজ: এডমিট কার্ডের খরচের নামে লক্ষ-লক্ষ টাকা বাণিজ্য, জিম্মি পরীক্ষার্থীরা

ডেস্ক রিপোর্ট :

ভোলার তজুমদ্দিন সরকারি ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি ২০২৬ ব্যাচের পরীক্ষার্থীদের এডমিট (প্রবেশপত্র) কার্ড বিতরণকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

কোনো প্রকার রসিদ ছাড়াই প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহজালালের নির্দেশেই এই অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কাজী নজরুল ইসলাম এবং সদস্য মো. আহসান উল্লাহ ও মো. শাহীন, সরাসরি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এই টাকা গ্রহণ করছেন এবং টাকা না দিলে এডমিট কার্ড দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন।

​গত রবিবার (২৮ জুন ২০২৬) সকাল থেকে কলেজে এডমিট কার্ড নিতে আসা একাধিক শিক্ষার্থী এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীরা টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা জানান, “এ টাকা দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা কেন্দ্রের খরচ বহন করা হবে।” তবে শিক্ষা বোর্ডের নিয়মানুযায়ী এডমিট কার্ড বিতরণের জন্য অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই। টাকা পরিশোধ করতে না পারায় অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থী সময়মতো এডমিট কার্ড পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ফর্ম ফিলাপের সময় আমরা বোর্ডের নির্ধারিত সব ফি পরিশোধ করেছি। এখন পরীক্ষা চলে এসেছে, এই সময়ে হঠাৎ করে ৮০০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। আমাদের বলা হচ্ছে, এই টাকা না দিলে নাকি পরীক্ষার হলে বসার জন্য প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না। আমরা গরিব মানুষ, হুট করে এত টাকা কোথায় পাব? কলেজের স্যারেরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।”

বিজ্ঞান বিভাগের আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন,​”টাকা নেওয়ার কোনো রসিদ বা রশিদ বই আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। যখন আমরা জানতে চাইলাম যে, বোর্ড তো কোনো অতিরিক্ত টাকা নিতে নিষেধ করেছে, তাহলে কেন নেওয়া হচ্ছে? তখন দায়িত্বরত শিক্ষকেরা আমাদের ধমক দিয়ে বলেন, ‘বেশি কথা না বলে টাকা জমা দাও, পরীক্ষা কেন্দ্রের খরচ কি তোমার বাপ দেবে?’ আমরা নিরুপায় হয়ে ধার-দেনা করে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছি।”

​এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহজালাল বলেন, অনেক শিক্ষার্থী ফরমপূরণের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে টাকা দেয়নি। এগুলো তো আর আমাদের পকেট থেকে দিবো না। এছাড়া কলেজের ২৩ টি ফান্ড রয়েছে সেই খরচ সরকারিভাবে নিতে হয়।

এ বিষয় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাধারণ প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক শামীম আল মামুন জানান, এডমিট কার্ডের নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বৈধতা নেই। বিষয়টি আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি। মহাপরিচালক মহোদয়ের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।