স্কুল শিক্ষকদের কোচিংয়ে প্রশ্ন ফাঁস ও ক্লাসে বৈষম্য সৃষ্টিতে জেলা ছাত্রদলের উদ্বেগ, জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোচিং বাণিজ্যের আড়ালে প্রশ্ন ফাঁস এবং কোচিংয়ে না পড়া শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বৈষম্য ও খাতায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যমে এমন সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভোলা জেলা ছাত্রদল। একই সাথে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
সাংবাদিকদের দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে ভোলা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুল্লাহ আল রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক নূর মোহাম্মদ রুবেল এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো মেধা ও নৈতিকতা চর্চার পবিত্র স্থান। কিন্তু কিছু অসাধু শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্যের কারণে আজ সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে যে, শিক্ষকদের ব্যক্তিগত কোচিংয়ে না পড়লে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে, এমনকি পরীক্ষায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খাতায় নম্বর কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর বিষয় হলো, কোচিংয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধা দিতে পরীক্ষার প্রশ্ন পর্যন্ত ফাঁস করে দেওয়া হচ্ছে—যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “আমাদের রাষ্ট্রনায়ক ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও আধুনিক উন্নত স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য রূপরেখা দিয়েছেন। তিনি সবসময় নির্দেশ দিয়েছেন যেন কোনো শিক্ষার্থীর মেধা ও অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। কিন্তু ভোলার কিছু লোভী শিক্ষকের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ড তাঁর সেই স্বপ্নের শিক্ষানীতির পরিপন্থী। আমরা শিক্ষা মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই—অবিলম্বে এই কোচিং সিন্ডিকেট ভেঙে দিন এবং দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।”
তারা আরও বলেন, গণমাধ্যমে আসা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এসব অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং দুঃখজনক। এই ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিনষ্ট করছে।
জেলা ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা অবিলম্বে এই চক্রের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।