মনপুরা সমাজসেবা কর্মকর্তা বললেন, ‘আমি ফার্স্ট ক্লাস অফিসার,
ডেস্ক রিপোর্ট :
ভোলার মনপুরা উপজেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের ৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ের বরাদ্দ ও সুবিধাভোগীদের তালিকা নিয়ে তথ্য চাওয়ায় এক সংবাদকর্মীর সাথে চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অশালীন আচরণ করেছেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আল গালিব। সরকারের সফলতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশের উদ্দেশ্যে তথ্য চাইতে গেলে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন।
‘ভোলার সময়’-এর ডেস্ক রিপোর্টার ফারহান হোসেনের সাথে ওই কর্মকর্তার কথোপকথনের শুরুতে সাংবাদিক জানান যে, ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে আপনার উপজেলায় কতজন সুবিধাভোগী হয়েছেন—সে বিষয়ে সরকারের সফলতা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করবে ‘ভোলার সময়’। আমাদের মনপুরা প্রতিনিধি আপনার অফিস থেকে তালিকাটি সংগ্রহ করবেন বলে জানালে কর্মকর্তা আল গালিব চটে যান এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন।
তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “আমার অফিসিয়াল তথ্য আপনাকে কেন দিবো? আপনি কি আমার অথরিটি? আপনি ফাস্ট ক্লাস অফিসারের সাথে কথা বলছেন। ধরেন আপনি আমার গায়ের প্যান্ট খুলে নিতে চাইলেই কি আমি তা আপনাকে দিয়ে দিব?”
সূত্রে জানা গেছে, মনপুরা উপজেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পে ৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই বরাদ্দ শেষ হওয়ার পর পুনরায় আবারও জেলা থেকে বরাদ্দ চেয়েছে উপজেলা অফিস। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই সহায়তার অর্থ ও উপকরণ প্রকৃত ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করা হয়নি। অনিয়মের এই তথ্য চাপা দিতেই ওই কর্মকর্তা তথ্য প্রদানে অনীহা প্রকাশ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ভোলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল হক অনু বলেন, “একজন সরকারি কর্মকর্তার কাছে তথ্য চাইতে গেলে যেভাবে প্যান্ট খুলে নেওয়ার মতো কুরুচিপূর্ণ ও অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করেছেন, তা শুধু একজন সাংবাদিকের নয়, পুরো সংবাদমাধ্যমের প্রতি চরম অবমাননা। এ ধরনের মানসিকতার ব্যক্তি কোনোভাবেই সরকারি দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আমরা অনতিবিলম্বে এই কর্মকর্তার মন্তব্য প্রত্যাহারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাজী গোলাম কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার এমন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকরা তথ্য চাইলে লিখিত হোক বা মৌখিকভাবে দিতে অসুবিধা তো দেখছি না। তিনি বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।